Thursday, October 1
Shadow

পুলিশ দিয়ে গুলি করাবেন? পুলিশ কিন্তু আগের ভুল করবে না!

দাশু পাগলা

গতবারের বিপ্লবে অনেক ভুলচুক হয়েছে সত্য। এবার কিন্তু সেসব হবে না। যারা মনে করছেন, গতবারের বিপ্লবে আমার ‘বালটাও ছিঁড়তে পারেনি।’ তারা এবার সাবধানে থাকবেন। এবার কিন্তু তেঁতে আছে জনগণ। জ্বলন্ত উনুনের মতো। এবার খেপলে পিতৃপ্রদত্ত চামড়াখানা টিকিয়ে রাখাও মুশকিল হবে।

বিএনপি তো রাজনীতি করে। একটা দল। আজ এই দিকে ছাতা ধরবে তো কাল আবার ধানক্ষেতে গিয়ে লুকাবে। আমলারা কই পালাবেন? বড় সচিব, ডিসি-ম্যাজিস্ট্রেট যারা আজ অকাতরে দুর্নীতিতে গা ভাসাচ্ছেন, ভেবেছেন আপনাদের তালিকা করা হচ্ছে না? আরেকবার ভাবেন। ভাবতে ভাবতে থই পাবেন না।

সম্পদ লুকাবেন কোথায়? বিদেশে টাকা পাচার করা শিখতেও তো সময় লাগে, তাই না? সমস্ত কিছুর হিসাব হচ্ছে। নিজে পালাবেন, বিপদে ফেলবেন কাছের আত্মীয় স্বজনদের।

বিএনপির নেতারা কেউ কেউ স্বপরিবারে বিদেশে পালাবেন সত্য। সেই বন্দোবস্ত তারা এখনই করছেন। কিন্তু পাতিনেতারা? যারা নেতার ইশারায় চাঁদাবাজি ও ভাঙচুর করছেন, তারা কোথায় লুকাবেন? আজ তো দেখলাম নেতার ইশারায় আদাবরে বাড়িতে ভাঙচুর চালানো সেই পার্টি হালকা ডলা খেয়েছে। একজনকে শুনলাম ব্যথায় কাতরাচ্ছে, তাকে যেন একটা ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। বুঝুন এবার। ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নামলে কী পরিমাণ পেইনকিলার আমদানি করতে হবে আমাদের।

কোনো দল টল লাগবে না। আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের মোড় ঘোরানোর জন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পোলাপান’ই যথেষ্ট। এরা একবার রাস্তায় নামুক শুধু, পরদিন টেম্পুস্ট্যান্ড সব ফাঁকা। স্কুলের ছেলেমেয়েরা লাঠিসোটা হাতে একটু গলা হাঁক দিক, পরদিন ‘পৌরসভার’ চাঁদা নয়, আস্ত পৌরসভাটাই নেতাদের ‘পেছন’ দিকে ঢুকবে। এরপর সরকার পতনে লাগবে বড়জোর এক সপ্তাহ।

সরকার চিৎপটাং হবেই। কেন? কারণ এবার পুলিশ আর আগের ভুল করবে না। তারা বুঝতে পেরেছে, হাজার দেড় হাজার ছেলেমেয়েকে গুলি করলেই কাজ হবে না। বরং তাতে বিপদ আরও বাড়ে, ফাঁসি-টাসির আদেশ হয়ে যায়।

এরপর? এরপরও কি ওই সংবিধান-টংবিধানের চক্করে পড়বে কেউ? মোটেও না। এরপর কী ঘটবে তা আমিও জানি না। তবে এটুকু জানি, কারও কারও পাছার চামড়া থাকবে না।  সুতরাং, সাবধান! এই তো আর কদিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *