মোঃ রাফিউজ্জামান রাফি
রাজনীতি এক সময় ছিল ত্যাগ, আদর্শ আর জনগণের মুক্তির সংগ্রামের নাম। ইতিহাস সাক্ষী—নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা মাহাথির মোহাম্মদের মতো নেতারা রাজনীতিকে শুধুই ক্ষমতা নয়, বরং জনগণের কণ্ঠ হিসেবে দেখেছেন। অথচ আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি, সেই রাজনীতি যেন ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে এক ধরনের আয়নাবাজিতে—যেখানে বাস্তবতা ও অভিনয়, নীতি ও সুবিধাবাদ, সত্য ও প্রচারণা পরস্পরকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে চলে। প্রশ্ন জাগে: আমরা কি সত্যিকারের রাজনীতি দেখছি, নাকি নিছক এক রাজনৈতিক মায়াজালে আটকে আছি?
আয়নাবাজি মানে কী?
আয়নাবাজি—অর্থাৎ ছলনার চিত্রনাট্য, চোখের ভেলকি, বাস্তবকে আড়াল করে এক ধরনের মায়া সৃষ্টি। একদিকে যা দেখা যায়, অন্যদিকে তার সম্পূর্ণ বিপরীত বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে পর্দার আড়ালে। রাজনীতিও আজ অনেকটা এমন—নেতার হাসিমুখ, দরিদ্রের ঘরে ...
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন নির্বাচন আগে কখনো হয়নি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আশা-পূরণের প্রতীক।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের পূর্বে বারবার বলেছেন, ‘ইতিহাসের সেরা’ এবং ‘বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী’ নির্বাচন হবে। নির্বাচনের দিন সেই কথার যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের আন্তরিকতা, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থা শ...
রহিম রানা: বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প এক সময় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে বিবেচিত হতো। ডিম ও ব্রয়লার উৎপাদনের দ্রুত সম্প্রসারণ শুধু পুষ্টিহীনতা কমাতেই ভূমিকা রাখেনি—এটি লাখো মানুষের জীবিকা, নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আজ সেই খাত একটি নীরব বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাজারব্যবস্থার অস্থিরতা, অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য, কন্ট্রাক্ট গ্রোয়িংয়ের একতরফা আধিপত্য, অনিয়ন্ত্রিত আমদানি, ফিড–বাচ্চার লাগামহীন দাম বৃদ্ধি—এসব সমস্যার সম্মিলিত অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা; যারা এই শিল্পের প্রকৃত ভিত্তি।
বিভিন্ন অঞ্চলে এখন যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগজনক। ফার্মগেটে মুরগির দাম কমে গেলেও খুচরা বাজারে দাম অপরিবর্তিত বা বেশি। অর্থাৎ খামারি লোকসান গুনছেন, ভোক্তা অতিরিক্ত দাম দিচ্ছেন—আর লাভে আছে অদৃশ্...
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো, রাজনীতি এবং সমাজজীবনের ভেতরে যে গভীর ক্ষয় প্রতিনিয়ত জমে উঠছে—তার অসংখ্য সূক্ষ্ম ও স্থূল চিহ্ন প্রতিদিনই চারপাশে ভেসে উঠছে। কোথাও ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, কোথাও সেবা খাতে লুটপাট, কোথাও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সামান্য কর্তৃত্বের অপব্যবহার, আবার কোথাও সামান্য সুযোগ পেলেই বিশেষ সুবিধা আদায়ের সংস্কৃতি। সমাজ যেন এক ধরনের সম্মিলিত নৈতিক ভাঙনের মধ্য দিয়ে অচেনা এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র কোনো একক ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং সমগ্র বাংলাদেশে প্রসারিত একটি ভয়াবহ বিস্তারের নাম—দায়মুক্তি ও অনিয়মকে স্বাভাবিক ধরে নেয়ার সংস্কৃতি।
সাম্প্রতিক সময়ে যশোরের সার্কিট হাউজে ভুয়া অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে সরকারি সুবিধা ভোগের ঘটনা কেবল একজন প্রতারকের বুদ্ধিমত্তা বা দুঃসাহসের গল্প নয়; এটি হলো রাষ্ট্রের সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক যাচাই-ব...
যারা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি চালান তারা এই লেখাটি প্রিন্ট করে কিছু ফটোকপি সাথে রাখুন। চলার পথে প্রত্যেক ট্র্যাফিক সার্জেন্টকে এক কপি করে দিন।
মাননীয়ট্রাফিক সার্জেন্ট/BRTA পরিচালক।বিষয়ঃঢাকা মহানগরীর প্রধান সড়কে ও জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা সম্পূর্ণ অপসারণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন, অন্যথায় সকল বৈধ যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ সকল প্রকার ট্যাক্স মওকুফ বা স্থগিত করার দাবি।মহোদয়,বিনীত নিবেদন এই যে, যদি আপনারা ব্যাটারি রিকশা বন্ধ করতে না চান তাহলে তাদের জন্য রাস্তার দুই পাশ দিয়ে আলাদা রাস্তা তৈরি করে দিন। একই রাস্তায় ব্যাটারি রিকশা আর ইঞ্জিনের গাড়ি চলতে পারে না। কারণ তারা একমুখী সড়কের উল্টো দিক দিয়ে চলে। পুরো রাস্তা দখল করে চলাচল করে ফলে ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয় যা অ্যাম্বুলেন্স-ফায়ার সার্ভিসের পথে বাধা হয় ও অন্যান্য ইঞ্জিন চালিত গাড়ির গতি কমিয়ে মানুষের মুল্যবান কর্মঘন্টা...
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
১। উনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ, গ্র্যাজুয়েট নন। উইকিপিডিয়াতে গিয়ে দেখুন—ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার খবর আছে, ডিগ্রির খবর নেই।
২। গত ১৭ বছর উনি লন্ডনের মতো শহরে থেকেও হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় একটা কথাও বলেননি। অবিশ্বাস্য, তাই না? কোনো ইমেজও তৈরি করতে পারেননি। ওনার পাশেই অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা আছেন, কিন্তু কেউ তাঁকে চেনে না। ঐসব জায়গায় কোনোদিন গেছেন বলেও শোনা যায়নি।
৩। গত ১৭ বছর উনি লন্ডন শহরে কীভাবে আয়-রোজগার করে চলেছেন তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। উনি কি চাকরি করেন? উনি কি ব্যবসা করেন? নাকি শরণার্থী ভাতায় চলেন? আমরা জানি না, উনি জানানওনি। সম্ভবত বলার মুখ নেই। বাকিটা আপনারা কল্পনা করুন।
৪। উনি জীবনে কোনোদিন কোনো চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা প্রফেশনাল কোনো কাজ করেননি। কোনো রেকর্ড নেই। বসে বসে খেয়েছেন এবং খাচ্ছেন।
৫। ১৯৯০ সালের ...
সাবিত রিজওয়ান
স্কুল–কলেজ জীবনের পরীক্ষাগুলো আমাদের গড়ে তোলার কথা; কিন্তু অনেক সময় এই পরীক্ষাই আমাদের মানসিক চাপ বাড়ায়। ফলে পরিশ্রমী, মেধাবী অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই হারিয়ে যেতে বসে। গবেষণায় দেখা যায়—
১০০% শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০% পরীক্ষায় বসতেই চায় না।
১০% এর পড়ালেখায় কোনো মনোযোগ থাকে না।
আর ৩০% পরীক্ষা দিতে চাইলেও তাদের মনে থাকে তীব্র আতঙ্ক।
এই ভয়ের কারণেই অনেকেই ঝরে পড়ে— নক্ষত্র হওয়ার আগেই নিভে যায়।
হেনরি ফিশ্যাল কী ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন, সে বিষয়ে আমার ধারণা কম; তবে একটা কথা স্পষ্ট— যে পরীক্ষা মানুষকে ভাঙে, সে পরীক্ষা রাখা বৃথা। আমি পরীক্ষার বিরুদ্ধে নই; আমি শুধু বলছি, পরীক্ষা এমন হওয়া উচিত যা মানুষকে গড়ে তোলে, ভেঙে দেয় না।
আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একটি করে গুণ, একটি করে আলো আছে। কিন্তু কোথাও গিয়ে সেই আলো নিভে যায়—
কোনও নক্ষত্রে চা...
"… ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে যখন মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে শেখ হাসিনা তখন সপরিবারে জার্মানীতে ছিলেন। স্বভাবত:ই তখন বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া তার জন্যে সহজ ছিলোনা। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ও আনুকূল্যে দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি বিদেশে, মূলত: ভারতে ছিলেন। একটি রক্তঝরা সামরিক অভ্যুত্থানে পিতামাতা, তিন ভাই এবং পরিবারের আরো কয়েকজন নির্মমভাবে নিহত হবার ঘটনায় স্বভাবত:ই তিনি শোকে মর্মাহত হয়ে পড়েছিলেন। নির্বাসিত জীবনে করার কিছুই ছিলোনা। স্পষ্টত:ই ভারতীয়রা তাকে মন:স্তাত্ত্বিক পরামর্শ কিংবা চিকিৎসা দেবার কোন ব্যবস্থা করেনি। কর্মহীন জীবনে শেখ হাসিনা অবিরাম তার শোক বুকে লালন করেছেন। শোক এবং প্রতিহিংসার বাসনা ক্রমে ক্রমে তার হৃদযন্ত্রের পুরোটা জুড়ে বসেছে। বলতে গেলে হৃদয়টা একাধারে শোকের সমাধি এবং ঘৃণা ও প্রতিহিংসার দাবানলে পরিণত হয়েছে।
ইতিমধ্যে দেশ ও ইতিহাস বসে থাকেনি। রাষ্ট্র তরণী ক...
মোহাম্মদ আলীর ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত
লজ্জা থাকলে আজকের পর থেকে "শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে" স্লোগানটা দিয়েন না।
হাসিনা আসবে না, এমনকি হাসিনার লাশটাও এদেশে জায়গা পাবে না। বাস্তব সত্যটা যতো দ্রুত মাইনা নিতে পারবেন ততই মঙ্গল।
পৃথিবীর ইতিহাসে কোন পালাতক সরকার দেশে ফিরতে পারে নাই।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত খুনী হাসিনা ফেরার প্রশ্নই আসে না।
মৃত্যুদণ্ডের রায় কতোটা স্বচ্ছ হলে হাসিনার পক্ষের (রাষ্ট্রপক্ষের) আইনজীবী হাসির সাথে মেনে নেয়, ভাবা যায়!
অলরেডি ভারত বিবৃতি দিলো, আদালতের রায় মেনে নিলো এমনকি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলো।
কিন্তু কষ্ট লাগলো, প্রকৃত অর্থে হাসিনারে লীগের কেউ ভালোবাসে নাই।
২০১৩ সালে যেদিন সাঈদীর ফাঁসির রায় হলো, তাৎক্ষণিক সাঈদীর সমর্থকরা প্রতিবাদ করলো।
১৬৮ জন নেতাকর্মী মারাও গেলো।
কিন্তু হাসিনার ফাঁসির রায়ে লীগের একটা কর্মীও কি মাঠে...