Saturday, January 3
Shadow

সাহিত্য

The stories and poetry of Bangladeshi writers and poets will be published in this category. Bangladesh has many promising writers who we believe can easily make their own place in the world literature arena.

রক্তের দাগ

রক্তের দাগ

কবিতা, সাহিত্য
সজীম শাইন তিপ্পান্ন বছরে প্রসারিত বাংলার সীমাচোখ যায় যদ্দুর--তারুণ্যের রক্তেরদাগ ছুঁয়েছে মাটি,ছুঁয়েছে সমুদ্দুর। মহাবিশ্ব বিস্ময়ে দেখেছে নতুন প্রজন্মের বীরত্বপূর্ণ সাহসী মুখ,অধিকার আদায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে আজ নব্য রাজাকারের বুক। একাত্তর, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন,সব হয়েছে ম্লান,স্বাধীনতার ভেতরেই পরাধীনতার গ্লানি, ঝরেছে তাজাপ্রান। ছাত্র জনতা জেগেছে,শহীদ হয়েছেআত্মত্যাগী বীর সৈনিক,যুবক-যুবতী, প্রেমিক-প্রেমিকা নির্ভয়ে সংগ্রাম করেছে দৈনিক। বৈষম্যবিরোধী মেধাবী ভাইবোন মিলেভুলে গেছে রাতদিন,রাজাকারের রক্তে আগুন লেগেই তোদেশটা হয়েছে স্বাধীন। দুর্গাপুর, নেত্রকোণা।...
মৃত্যুর অজানা ডাক

মৃত্যুর অজানা ডাক

কবিতা, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান দুনিয়াটা ক্ষণস্থায়ী—সুখ-দুঃখে থাকে প্রহরে,হয়তো কখনো এই জীবনে মরিচীকা ধরে।কবে যেন মৃত্যু হঠাৎ করে ডাকে আমায়,চলে যেতে হবে একা—সব কিছু ছেড়ে হায়।কেউ শত্রুতায়, কেউ মিত্রতায় বলবে, "বিদায় হয়েছে আপদ",কেউ থাকবে শোক পালনে, কেউ দেখাবে মিছে দরদ। দুনিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়।জানিনা কতগুলো পাপ করেছি, কতটুকু নেক আমলনামায়।মরণ কালে যেন কালেমা আমার মুখে হয় উচ্চারিত, ওগো মালিক,দিও ইমান প্রাপ্তির তৌফিক, করুণার অমল ধ্বনিক।হয়তো সকলের কাছে আর কখনো মাফ চাওয়ার সুযোগ না-ও পেতে পারি,তাই আজই চাচ্ছি মাফ—যদি তিল কিংবা পাহাড়সম ক্ষতি করি। আমার রুহের মুক্তির আশায় কেউ কি কখনো কাঁদবে?ভালবেসে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবে?জানিনা পরকালে কোথায় পাব ঠাঁই—জান্নাত নাকি জাহান্নাম—ভাবলেই বুকের মাঝে আশঙ্কা দেয়।মরণের কথা স্মরণ কর,কবর ডাকে সত্তর বার।...
বৃত্তে বন্দি জীবন

বৃত্তে বন্দি জীবন

কবিতা, সাহিত্য
হাসান মাহমুদ বৃত্তে বন্দি জীবন আমারচিত্ত উদাস উদাস,পরাণ আমার মুক্ত আকাশ—শিকলবন্দি বাস। মুক্ত আবাস খুঁজছি আমিশীত হাওয়ার দোল,যেমন থাকে পাকপাখালিযেমন মায়ের কোল।
আহমেদ বিশালের ৩টি কবিতা

আহমেদ বিশালের ৩টি কবিতা

কবিতা, সাহিত্য
গোধুলি ক্ষনের কাব্য  গোধুলি মেখেছে সোনালী ধুলো  ‎রূপে যেনো নেই কমতি তাহার,  ‎কখন মেলেছে রুপালি ডানা ‎দ্যুতি ভরা তার দিপ্ত বাহার। ‎ ‎গোধুলি যেনো আজ চিত্তাকর্ষক  ‎ধুলো মাখা তার রুপের গড়ন,  ‎ধু ধু ফসলের মাঠটি পেরিয়ে ‎অপারে যে হয় সূর্য হরন। ‎ ‎গোধুলি পড়েছে রঙিন শাড়ি ‎পুরোটা জুড়ে যে নকশা কঠিন  ‎ধুলিকনা মাখা তাহার আঁচল  ‎হলুদাভ তার শাড়ির জমিন। ‎ ‎গোধুলি নেমেছে পথে প্রান্তের  ‎আকাশে পড়েছে মেঘে মেঘে ভাজ ‎মেঘফুল তবু ফুটে ফুটে মেঘে ‎মোহনীয় রূপ ছড়ায়ে যে আজ। জীবনের কলতান  পবনে লেগছে দোলা বাতাস ছুটছে নীলে আঁখি খুলে বসে আছি  জীবনকে ছেড়ে দিয়ে। জীবনকে ছেড়ে দিয়ে চেয়ে থাকি আমি ঐ ঘাসে ঢাকা ভূমিটাতে কচুবন মাথা নাড়ে  জীবনের মতো করে। আকাশে পাখিরা ওরে  নী...

ব্রাজিলের চোখে পানি 

কবিতা, সাহিত্য
মোঃ স্বাধীন মিয়া সবুজ আর হলুদে রাঙা,   একটা দল, একটাই ধ্বনি,   “সাম্বা নাচে ফুটবলের প্রাণ”,   সেই ব্রাজিল—সেই গর্ববাণী। মাঠে নামে আগুন নিয়ে,   পায়ের ছোঁয়ায় বাজে তান,   তবুও কেন থামে হৃদয়,   জয় হয় না প্রতিবারই জান! পেলেকে খুঁজে ফেরে চোখ,   মারাদোনা নয়, আজ নেইমার,   শত গোলের মাঝে লুকায়   এক হারানো সোনার ক্ষার। দর্শক চিৎকার, হাহাকার,   আকাশ জানে কান্নার স্বর,   বুকে গেঁথে হাজার পতাকা,   তবু চোখে জল—ব্রাজিলের! তবে কি ফুটবল থেমে যাবে?   না, নয়তো এ পথ চেনা।   এই কান্না, এই হারা স্বপ্নই   নতুন লড়াইয়ের বীজ বোনা। জয় আসবে আবার, একদিন,   গর্জে উঠবে বিজয়ের গান,...

কন্যার বিয়ের কর

কবিতা, সাহিত্য
নুর হোসেন ভূঁইয়া ঘাম ঝরিয়ে গড়লো এ ঘর, স্বপ্ন গড়ল একা, মেয়ের হাসি দেখার আশায়, বুক চেপে সহে ব্যথা। বড় করে তুলল যারে, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, দিলো নিকাহ সাদরে, হিসাব নিলো কে কভু? ইফতারি দিলো জামাই ঘরে, কুড়ি হাজার খরচ, টাকা কি আর গাছে ধরে; ধার দিয়েছে ছওড়া দরে, রক্ত ছুষে নিবে পরে। তবুও শুনতে হলো কথা “কম হয়েছে একটু নুন!” ঈদ এলে চায় না তো কিছুই, না দিলে কেবল বায়না বড়ায়, ফল দিতে হবে, গরু পাঠাও, নগদ টাকাকড়ি,আরও কত কি! কষ্টের হিসাব নাই। গ্রীষ্ম এলো; ফল না পাঠালে মনটা কালো; সাথে আরও কত কি! শীত এলেই পিঠা দিতে, আবার নতুন জ্বালা। শীত ফেরিয়ে বসন্ততে, কত কিছুর পালা। ও! নিকার সময়তো বাদই গেলো, তখন যে আরও কত কি! সংসার পৃথক হতে যত খরছ, তার ছাইতে কম কি! এদিকে ছেলে পরিক্ষা দেবে, ফর্ম ফিলাপে লাগে, ...
অনুভবে তুমি

অনুভবে তুমি

কবিতা, ফিচার, সাহিত্য
বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী তোমার চোখ,মুখ,ঠোঁট আর তোমার দৃঢ় চিবুক  আমার এক একটি কবিতার  শাণিত শব্দ ভান্ডার। তোমার উত্তোলিত মুষ্টিবদ্ধ হাত আমাকে বিদ্রোহী করে তোলে, তোমার দু'চোখের গভীরে  আমি দেখি - আমার সমস্ত পৃথিবী। যখনই দেখি-তোমার বলিষ্ঠ বাহু আর উঁচু নাসিকা ঠিক তখনই  আমার দুচোখে ভেঁসে উঠে নদ-নদী পাহাড়-পর্বত পরিবেষ্টিত  আমার প্রাণপ্রিয় জন্মভুমি  সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ। যখনই দেখি -  তোমার মিষ্টি হাসি আর  বাতাসে দোল খাওয়া  তোমার রেশমি চুলের বাহার ঠিক তখনই  যেন খিলখিলিয়ে হেসে উঠে  বাংলার সোনালী প্রান্তর। যখনই দেখি -  তোমার শাড়ির আঁচল ঠিক তখনই  আমার মনে হয় এ যেন পতপত করে বাতাসে দোল খাওয়া আমার প্রাণপ্রিয়  সেই লাল সবুজের জাতীয় পতাকা।...
প্রয়াণ দিবসে মহাকবির পূণ্য স্মৃতিতে

প্রয়াণ দিবসে মহাকবির পূণ্য স্মৃতিতে

ফিচার, মনের বাঁকে, সাহিত্য
বৃষ্টি মাথায় দৌড়ে একপুরাতন ভবনের পোস্ট অফিসে  যখন আশ্রয় নিলাম ওখানে তখন একজন কর্মচারী কাজ করছেন। সবেমাত্র এসেছি এ এলাকায়। তবে ভিতরে গিয়ে চেয়ারটা দেখেই কেন যেন মনে হল এটি গুনী মানুষের  স্পর্শে গুনান্বিত একটি  ঐতিহাসিক স্মৃতি  স্মারক । আগলা পোস্ট অফিস ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জে। এখানেই  তো  জন্মে ছিলেন  মহাকবি  কায়কোবাদ । মোহাম্মদ কাজেম আল-কোরশী  ছিল  আসল নাম।  বাংলা সাহিত্য জগতে    ধ্রুব উজ্জ্বলতা  ছড়ানো  নক্ষত্র  মহাকবি  কায়কোবাদ।তিনি  তো কর্মজীবন কাটিয়েছন এ চেয়ারে বসে। এই পোস্ট  অফিসে ।  ছুয়ে দেখি মহাকবি-র  পূণ্য  বিজারিত  স্মৃতি  চিহ্ন ।  সুদীর্ঘ কাল নবাবগঞ্জ কর্মজীবনে আমার  পরম সৌভাগ্য হয়েছে কবির জন্ম ভিটায় সুনিমর্ল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে  নেওয়ার...
জাদুর পুকুর

জাদুর পুকুর

গল্প, ফিচার, সাহিত্য
ওমর ফারুক আশরাফি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কুলিকুন্টা গ্রামটি শান্ত-নিবিড় প্রকৃতির এক অপূর্ব কোণে অবস্থিত। এই গ্রামেরই এক প্রান্তে আছে প্রাচীন এক আমবাগান, আর সেই বাগানের পেছনে ছায়া ঢাকা একটি পুকুর। পুকুরটি ঘিরে ছড়িয়ে আছে বহু রহস্যময় গল্প ও লোককথা। সে পুকুরের পাশে দাঁড়ালে আজও যেন বাতাসে ভেসে আসে এক অতীতের গন্ধ, এক অদ্ভুত শিহরণ। পুকুরটির পাশেই রয়েছে ভূঁইয়া বাড়ি—একসময়ে যার নাম উচ্চারণেই গ্রামে ছড়িয়ে পড়তো সম্মান আর গৌরব। বড়, প্রাচীন, দোতলা সেই বাড়িটি ছিল ধন-সম্পদ, আতিথেয়তা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। নানুর মুখে শুনেছি, সেই বাড়িতে যখনই কোনো বিয়ের আয়োজন হতো, পুকুর থেকে স্বর্ণের থালা-বাটি ভেসে উঠতো। কেউ জানতো না ওগুলো কোথা থেকে আসে, কারা রেখে যায়, তবে সবাই জানতো—এটা ছিল এক আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ। ভূঁইয়া বাড়ির বড় ছেলে ছিলেন আভু ভূঁইয়া। সৌম্য চেহারা, দৃঢ়চেতা মন ও দরদভরা হ...

ভবিষ্যতের ছায়া

কবিতা, ফিচার, সাহিত্য
– ইকবাল খান ভবিষ্যতের ডাকে বুক ধড়ে আশার আলো, তবু মাথায় ঝুলে থাকে দুঃস্বপ্নের ছায়া। ভয়ের ভিতরে এক অচেনা ইচ্ছা, চোখ রাখলেই সামনে ধোঁয়াটে পথ। নির্ভরতার শূন্যতায় কাঁপে চারদিক, অন্তরে বাজে নিরুদ্দেশের সুর। কারো হাত নেই—শুধু প্রশ্ন, শব্দহীন এক অপেক্ষা ভরে রাখে আকাশ। হৃদয় খোঁজে এক মুক্তির বাগান, যেখানে আলো ঝরে ক্লান্ত জীবনে। তবু বিশ্বাসে বাঁচি, নতুন ভোরের আশায়— ভবিষ্যতের ছায়া টেনে আনে সাহস। কবি পরিচিতি: ইকবাল খান, ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, ঢাকা...