Friday, January 2
Shadow

সাহিত্য

The stories and poetry of Bangladeshi writers and poets will be published in this category. Bangladesh has many promising writers who we believe can easily make their own place in the world literature arena.

বড্ড ভালবাসি 

বড্ড ভালবাসি 

কবিতা, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান  বড্ড ভালবাসি স্বপ্নে বাঁচি ওগো নীলাঞ্জনা,  এ হৃদয়ে তোমার নাম কেন বুঝতে পার না।  এক বুক ভালবাসা রেখেছি তোমার জন্য,  তোমায় পেলে এ জীবন মোর হবে বুজি ধন্য।  প্রেম পিপাসা কিছু আশা,  দু'মন মিলে ভালবাসা।  যদি ভালবাসো আমারে,  এক টুকরো চাঁদ এনে দিব তোমারে।  ও রূপসী মেয়ে আছি তোমার পথ চেয়ে,  স্বপ্ন বুনে রেজন তোমারে নিয়ে।  প্রেম জেগেছে এ মনে,  লুকিয়ে লুকিয়ে তোমায় দেখি থাকিয়া ঘরের কোনে।...
রক্তাক্ত বাংলা

রক্তাক্ত বাংলা

কবিতা, সাহিত্য
সজীম শাইন প্রায় পাঁচশো বছর আগে যে ভূখণ্ডে উচ্চারিত হয়েছিল  "সবার উপরে মানুষ সত্য"-- সেই ভূখণ্ডে এখন মনুষ্যত্ব লঙ্ঘিত। ব্রিটিশ আর পাকিস্তানি রাজত্বের হয়েছে অবসান,  ধর্ম-জাতি-গোত্রের ভেদাভেদে মানুষের হয়েছে অপমান। বৈষম্য আর ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার দায়ে  প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলো জুলাই বিপ্লব  রক্তাক্ত বাংলা --- খণ্ডিত হলো আজ হিন্দু-মুসলমান। দুর্গাপুর, নেত্রকোণা।...
রক্ত দিয়ে কেনা

রক্ত দিয়ে কেনা

কবিতা, সাহিত্য
সজীম শাইন সন্ধানী চোখে কবিতার খুঁজে  নিজের ভারসাম্য বজায় রাখি, আবৃত্তির সাজে, দক্ষ কারুকাজে  কণ্ঠশিল্পীর মায়াবী যুগল আঁখি।  দ্রোহের কবি, গণমানুষের ছবি বাঙালি জাতির গর্বিত সেনা, বৈষম্য বিরোধী কর্মে সাম্যবাদী অর্জিত সীমানা রক্ত দিয়ে কেনা। প্রহরী মাতাল, করে গোলমাল  নিরোধন কাব্য করবো বপন, সময়ের মূল্য নেই তার তুল্য আমি সার্থক পাঠকের স্বজন।  দুর্গাপুর, নেত্রকোণা।...

তোমার অপেক্ষায়

গল্প, সাহিত্য
মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন ইবনে মোস্তাফিজ রাত গভীর। জানালার কাঁচে জমে ওঠা শিশিরের ফোঁটাগুলো যেন তারই মনের ভেতর জমে থাকা স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ঘরের ভিতরেও। এক কোণে একটা ছোট্ট টেবিল, টেবিলের ওপর খোলা একটা ডায়েরি। ছেলেটি ডায়েরির পৃষ্ঠায় কলম চালাচ্ছে। ভাবনার জোয়ারে ভাসছে মনটা। সে এক অবিবাহিত পুরুষ, অথচ তার লেখাগুলো যেন রোমান্সের সরল নদী। আমার প্রিয়তমা, আজও আমি তোমায় অনুভব করি। জানি না তুমি কোথায়, তবে নিশ্চিত আমি তুমি আমারই জন্য গড়া। তোমার হাতে তুলে দেওয়া পানির গ্লাসেও আমি খুঁজে পাবো শ্রদ্ধা, আর আমি তোমার হাত ছুঁয়ে বোঝাতে চাই এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা শুধু তোমার জন্যই সঞ্চিত রেখেছি। তুমি হয়তো কখনো আমার মুখের দিকে তাকিয়ে স্রেফ চোখ নামিয়ে নেবে সংস্কারের লালিত্যে। কিন্তু আমি তো জানি, তোমার সে চোখে থাকবে আমার প্রতি অগাধ ...
গল্পের নাম: “শেষ ট্রেনটা যখন ছাড়ে”

গল্পের নাম: “শেষ ট্রেনটা যখন ছাড়ে”

গল্প, ফিচার, সাহিত্য
এ. কে. এম. নাজমুল আলম : ভালোবাসা সবসময় চিৎকার করে আসে না, কখনো কখনো চলে যায়— একদম শব্দ না করে...” নিরা ট্রেন ধরতে দৌড়াচ্ছিল। চোখে-মুখে ক্লান্তি, হাতে ভারি ব্যাগ, মনে একরাশ অভিমান। একটা ব্যর্থ সম্পর্কের শেষ ছুঁয়ে ফেরা কেউ আর কি-ই বা নিয়ে ফেরে? ঠিক তখনই ধাক্কা খেয়ে পড়লো। একটা হাত তাকে টেনে ধরলো। “সাবধান! ট্রেন তো থামেই না, মন ভাঙা মানুষ তো আরও তাড়াতাড়ি পড়ে যায়!” বললো ছেলেটা, মুখে হালকা হাসি, চোখে গভীর বিষাদ। ছেলেটার নাম ছিল নাঈম পাশাপাশি বসা দুই অচেনা মানুষ— কিন্তু ট্রেন যতদূর যাচ্ছিল, তাদের মধ্যকার দূরত্ব যেন কমে আসছিল। নিরা কথা বলতো কম, কিন্তু নাঈম কথা কমানো জানতো। সে বললো, "তোমার চোখে অভিমান, আর আমার জীবনে আফসোস—এই ট্রেন আমাদের ঠিকঠাক একসাথে এনেছে মনে হয়।" নিরা একটু হেসে বললো, "তুমি কবি না অভিনেতা?" "আমি আসলে হেরে যাওয়া মানুষ—তবে এখনো গল্প ...
রক্তজবার মায়াজাল: স্মৃতি, প্রেম ও অধরা বাস্তবতা

রক্তজবার মায়াজাল: স্মৃতি, প্রেম ও অধরা বাস্তবতা

গল্প, ফিচার, সাহিত্য
কাইয়ুম আজাদ : বৈশাখ মাসের অন্তিম দিন। বেলা তখন দশ প্রহর। মতলব চাচা আর আমি বিদ্যাগঞ্জ রেল স্টেশনের নিরবচ্ছিন্ন অপেক্ষায় প্রহর গুনছি। আজকাল বেগুনবাড়ি স্টেশনে রেলগাড়ি আর থামে না, তাই বিদ্যাগঞ্জই একমাত্র ভরসাস্থল। আমাদের গন্তব্য জামালপুরের দুরমুট হযরত শাহ্ কামাল রহমাতুল্লাহ আলাইহির পুণ্য মাজার শরীফ জিয়ারত করা। সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়েই এখানে ওরস চলে, আর আজই সেই পুণ্য ওরসের পরিসমাপ্তি। বাদ এশার পর আখেরি মোনাজাতের পুণ্য লগ্ন। আমার পকেটে দুইটি রক্তজবা পুষ্প, কারণ আজ আরও এক অপ্রকাশিত সত্তার সহিত সাক্ষাৎ হইবার কথা, সে কে, তা উন্মোচিত হবে যথাসময়ে। দশ প্রহরের ট্রেন একাদশ প্রহর অতিক্রান্ত করিয়াও আসার কোনো হেতু প্রদর্শন করিল না। আমরা চা স্টলের সামান্য পরিসরে উপবিষ্ট হইয়া উষ্ণ চা পান করিতেছি। মতলব চাচা ক্ষণে ক্ষণে দূরভাষ যন্ত্র বাহির করিয়া সজীব সম্প্রচার করিতেছেন, জ্ঞাত করিতেছেন আমাদের গন্তব্য ও...

নীলিমার নীল শহর

গল্প, সাহিত্য
ইকবাল খান ঢাকার ব্যস্ত শহর। রাস্তায় গাড়ির গুঞ্জন, মাথার ওপর ভ্যাপসা রোদ, আর ক্লান্ত মানুষের ভিড়। ঠিক এই শহরের ভেতরেই বাস করে এক মেয়ে—নীলিমা। নীলিমা নামের মতোই সে ছিল অন্যরকম। চোখে স্বপ্ন, হাতে স্কেচবুক, আর কাঁধে একটা কাপড়ের ব্যাগ। সে ছিল শহরের একটা শান্ত কোণায় গড়া ছোট্ট আর্ট গ্যালারির শিক্ষিকা। প্রতিদিন সে শিশুদের রঙের ছোঁয়ায় পৃথিবীটা আলোকিত করতে শেখাতো। একদিন গ্যালারির দরজায় হাজির হয় অনিক—ঢাকার নামী একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। তার অফিস ছিল পাশেই, কিন্তু সে কখনো এই গ্যালারির ভেতরে পা রাখেনি। সে দিন ছিল বৃষ্টির। ছাতা ছিল না অনিকের। গ্যালারির ছাউনির নিচে এসে দাঁড়িয়েছিল সে। তখনই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে নীলিমা। – “ভিজে গিয়েছেন?” – “হ্যাঁ… এই শহরে ছাতা না থাকলে ভালোবাসাও মুছে যায়,” অনিক হেসে বলেছিল। নীলিমা একটু চমকে গিয়েছিল। হয়তো কথাটা গভীর ছিল...

ক্লান্ত 

কবিতা, সাহিত্য
ওমর ফারুক  একটি তারার শিকে সজ্জিত জানালায়, সুবাতাস সেও বিভাহিন মৌন প্রায়। কোন দালানের দীপহীন ঘরে বিজন দেহ রটিয়ে রাতের চাঁদকে নেভালে কি লজ্জায়! কল্পনা সে তো কুসুম হয়নি,চতুর হাত, বাতায়ন হলে মুছে দিতে ভীরু সভ্যতা; মেধা কখনো হয়নি কো ক্লান্ত।  দেখ ক্লান্ত পথিক ফিরছে কিভাবে ঘরে?  ক্লান্ত আলোক নিভিয়ে বাতানো•• চিত্র এবং আলোকরশ্মি।।...

মৃতের ফেরত যাত্রা 

গল্প, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান সেই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে বের হয়েছি। মাঝপথে: চান্দিমা বাইপাসের ধারে কিছু হোটেলের সাইনবোর্ড চোখে পড়তেই শাহ আলম কাক্কু বলে উঠলেন,"তুফান, সামনের হোটেলে ট্রাকটা দাঁড় করাও। অনেক চালাইছো, এখন একটু লাঞ্চ করতে হবে"। কথাটা বলতে আমরা পৌঁছে গেলাম একটা রোডসাইট হোটেলে। আমরা মালবাহী গাড়ি চালাই; তাই কখনো কখনো যাত্রীবাহী গাড়ীর ড্রাইভার-হেল্পারদের তুলনায় একটু দু-চার মিনিট বেশি রেস্ট নিতে পারি। আজকেও ঠিক তাই—ডিমভাজা দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে রেস্ট নিচ্ছি।  পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করে ডাটা অন করামাত্রই ফোনে নোটিফিকেশনের হিড়িক পড়ে গেল। "Clear All"-এ ক্লিক করতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই চোখে পড়ল এক অদ্ভুত খবর‌‌‍— "দু'মাস আগের মৃত মানুষ, গত তিনদিন ধরে জীবত!"  প্রথমে ভূয়া খবর ভেবে পাত্তা দিলাম না। ইদানীং কাজের চাপ এতটাই যে, ফোনটাও ঠিকমতো ব্যবহার করি না। মালবাহী গাড়ির...

তোমার জন্য বৃষ্টিদিন

গল্প, ফিচার, সাহিত্য
এ. কে. এম. নাজমুল আলম “সব প্রেম কি শেষ পর্যন্ত প্রেমই থাকে?” এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছিল অরণীর মনে—বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যেতে যেতে, আবারও এক পুরনো রিকশার ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে... বৃষ্টি শুরু হয়েছিল হঠাৎ করেই। রাজধানীর ব্যস্ত বিকেল, অফিসফেরতা মানুষের জটলা, তাড়াহুড়ো। অরণীও ছুটছিল, তবে বাইরের জন্য না, ভেতরের অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে। হঠাৎ করেই সেই পুরোনো কণ্ঠস্বর— "অরণী?" কণ্ঠটা চেনা, এতটাই চেনা যে শরীরের প্রতিটি স্নায়ু জেগে উঠলো। সে ছিল ইশান। পাঁচ বছর আগে যে মানুষটা এক কাপ কফির টেবিলে বলে দিয়েছিল, "তুমি অনেক ভালো, কিন্তু আমাদের পথ আলাদা।" আজ তারা আবার এক ছাউনির নিচে। ইশান ভিজে একাকার, অরণীর ছাতার নিচে ঢুকলো না, শুধু তাকিয়ে থাকলো। চোখে অদ্ভুত অভিমান আর অনুশোচনা—হয়তো মেশানো কিছু অনুভব। "তুমি কেমন আছো?" —অরণী জিজ্ঞেস করলো, কিন্তু গলায় কম্পন ছিল...