Friday, January 2
Shadow

সাহিত্য

The stories and poetry of Bangladeshi writers and poets will be published in this category. Bangladesh has many promising writers who we believe can easily make their own place in the world literature arena.

স্বার্থের সমাজে এক মানুষের আর্তনাদ 

স্বার্থের সমাজে এক মানুষের আর্তনাদ 

মনের বাঁকে, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান  প্রাপকে জানিয়ে দিই, আমার বাঁচার ইচ্ছে আর নেই। কষ্টে ভরা জীবন দিয়ে কী আর করব? হতাশা আমাকে দিনে দিনে শেষ করছে। সুখের জীবন না পেয়ে আমরা শোকের জীবন পাই। আমাদেরও তো একটা সম্মান আছে, তাই না? ছোট থেকে ভুলভাল বুঝানো হয়েছে—বিধায় হতাশার সাগরে ডুবতে হয়। “গরীবের ঘরে জন্ম নেওয়া তোমার দোষ না, কিন্তু গরীব হয়ে মরাটা তোমার দোষ”—এ কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। এটা এক ধরনের মনগড়া বুলি। কারণ মানুষের হাতে সব সময় সুযোগ থাকে না। মুর্খ মানুষের হাতে টাকা গেলে তাদের কথাও হয়ে যায় মহান ‘বাণী’। কিন্তু এই কথাটা শিক্ষিতের নাকি মূর্খের—তা আমি জানি না। জীবনে সুখ আসে ভাগ্য, পরিস্থিতি ও পরিশ্রমের মিলন থেকে। কিন্তু আমাদের ভাগ্যটা খারাপ, আর পরিস্থিতিও আমাদের প্রতিদিন ঠেলে দেয় পেছনে। পরিশ্রম করার শক্তিটুকু থাকলেও সুযোগটা পাই না। আমি শুনেছি, আমাদের পূর্বপুরুষরাও অনেক পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু উন...
শেষ আমন্ত্রণ

শেষ আমন্ত্রণ

গল্প, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান তুফান সীমাকে ভালবাসে। সীমাও বলেছিল— “তোমায় অনেক ভালবাসি।” প্রেমের আট মাস কেটে গেছে ফোনে নিয়মিত আলাপে। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে কথা। সীমার কাছে সবসময় টাকা থাকে না—বাবা বা ভাই যেদিন দেয়, সেদিনই। তুফানও একইরকম—শিক্ষার্থী, নিজের আয় নেই। বাবা কিছু টাকা দিলেও কোনো মাসে দুইবার কোনো মাসে একবার দেয়, তবে মাসে একবার দেওয়া এটাই বেশি ঘটেছে। তাই তুফান চেষ্টা করে মাসে অন্তত এক-দুইবার কল দিতে। কখনো কথা হয়, কখনো ফোন বন্ধ, কখনো ব্যস্ত। এরপরের মাসে তুফানের নিজেরও টাকা প্রয়োজন পড়ে—ফোন রিচার্জ করতে পারে না। দু’মাস তারা কথা বলে না। সীমাও আর কোনোদিন কল দেয়নি। তারপরের মাসে তুফান ফোন দিলে বারবার ব্যস্ত। এভাবে তিন-চার-ছয় মাস কেটে যায়। কখনো ফের সীমার ফোন ধরেছিলেন তার বাবা-মা। সাত মাস ধরে তুফান আর সীমার কথাই হয়নি।  গাইবান্ধা যাত্রা তুফান রংপুরে থাকত। হঠাৎ বাবা তাকে গাইবান...
হৃদয়ের আকুতি: একটি প্রার্থনা

হৃদয়ের আকুতি: একটি প্রার্থনা

কবিতা, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান হে আল্লাহ, বেকার জীবনের দুঃখ-কষ্ট থেকে আমাদের মুক্তি দাও। ইসলামের সোজা পথে চলার তৌফিক দান করো। আমাদের জ্ঞান দাও, হেদায়েত দাও, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি দাও। রহম করো— আমরা যেন পরস্পরের পাশে দাঁড়াই, একজন আরেকজনের প্রকৃত বন্ধু হতে পারি। হে পরম দয়ালু আল্লাহ, আমাদের রিজিক হালাল করো, আমরা ধনী হতে চাই না, শুধু সুন্দর আর সম্মানের সঙ্গে জীবন-যাপন করতে চাই। শক্তি দাও— সৎ পথে স্থির থাকার শক্তি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। তুমি সবকিছুর খবর রাখো, তোমার ভালোবাসাই আমাদের প্রথম ও শেষ ভরসা। হে আল্লাহ, এই দেশ থেকে সকল অন্যায়, অপরাধ ও দোষ দূর করে দাও। তুমি সবার রব—সবার জন্য কল্যাণ নাজিল করো। আমাদের মাফ করে দাও; তোমার কাছ থেকে মাফ পাওয়া— আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— তুমি ক্...
লবণের মতো ভাগ্য

লবণের মতো ভাগ্য

কবিতা, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান অনেক কথায় রয়ে যায় অজানা। আফসোসগুলো জীবনে হানা দেয়, বাঁচার স্বাদ থাকেনা— তবু চাইতেই হবে, কারো জন্য বাঁচতে। কজনই বা ভালোবাসবে? কেউ না কেউ ঘৃণা করবেই—প্রকাশ্যে বা আড়ালে। আমিও কাউকে ঘৃণা করি, কাউকে শত্রু ভাবি। এভাবেই নিজেকে নিজে চালনা করি আমরা। সত্যি, আর সেই মানুষটি হতে পারলাম না। স্বপ্নের বীজ রোপণ করলাম, ভাগ্যই আমার লবণের মতো— আর সেই ভাগ্যটাই ছিল সার। জমি থেকে আগাছা পরিষ্কার না করতেই দেখলাম অঙ্কুর মারা গেছে। নিজের মাঝে কত কি যে চাষ করি, হয়তো নিজের যত্ন নিজেই নিতে পারছি না। কান্না করার ইচ্ছে হলেও তা ব্যর্থতা; হাসতে চাওয়াটা বোকামি, আর নীরব থাকা অহংকার। হেসে কি তাই পাগল নামটিই কিনব? হাসলে তো শুধু পাগল তা নয়, আরো কত কারণে যে পাগল হতে হয়! কারো জন্য কিছু করতে পারলাম না। নক্ষত্রগুলো অভিমান করছে— কখ...
আমরা কি ভালবাসার যোগ্য নই? 

আমরা কি ভালবাসার যোগ্য নই? 

কবিতা, সাহিত্য
—সাবিত রিজওয়ান  আমি কি সত্যিই এতটাই খারাপ, যে তুমি আমায় ভালোবাসতে পারবে না? গরিব মানুষের সাথে কি প্রেমে জড়ানো যায় না? তুমি কি কোনো জমিদারের মেয়ে, যে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কাছে আসা তোমার মানায় না? আজকের প্রশ্নগুলোর উত্তর ভালোবাসাও হতে পারে, আবার আঘাতের মতো কোনো তীক্ষ্ণ সত্যও হতে পারে। তুমি কি সেই আকাশের চাঁদের আলো? আর আমি কি নর্দমার অন্ধকার, তাই আমাদের পথ মেলে না? যদি পরিবেশের কথা বলো— তোমার-আমার আধুনিকতা, স্মার্টনেস, পোশাক, আচরণ, চলাফেরা, কথা-বার্তা, সবকিছুর তুলনা করো— তবে সেখানে আর প্রেম থাকে কোথায়? ধনীর সাথে ধনীর প্রেম, গরিবের সাথে গরিবের— এই হিসাব-নিকাশে ভালোবাসা তো নেই; ভালোবাসা সওদাও নয়, বংশ-পরিচয়েরও নয়… এটা কেবল হৃদয়ের অধিকার, আর সেই অধিকার তুমি কি আমাকে দেবে না?...
ভুল বুঝাবুঝির ফাঁদে 

ভুল বুঝাবুঝির ফাঁদে 

ফিচার, মনের বাঁকে, সাহিত্য
সাবিত রিজওয়ান আমি যাকে ভালোবাসতাম—তার নামের একটি শব্দ আজও আমার মনে বাজে। শব্দটি হলো “তাসমিন”। একসময় আমরা বন্ধু ছিলাম। ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, আমি সাহস করে তাকে বলেছিলাম, “তোমায় অনেক ভালোবাসি… তুমি কি আমায় ভালোবাসবে?” ভাবতেও পারিনি, এই কথাটাই তার মনে আঘাত হয়ে ফিরে আসবে। সেদিন থেকেই আমাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরল। এখন দুজনেই একে অপরের প্রতি বিরক্ত। তাসমিনকে ভালো মনে করেই বন্ধুত্ব করেছিলাম। প্রথম পরিচয়ের কিছু ভঙ্গি ও আচরণ আমাকে ভুল বুঝিয়েছিল—মনে হয়েছিল হয়তো সে আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু পরে বুঝলাম, মনে হওয়াটাই ভুল ছিল। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি ঘটল জুন মাসে। ১৭ জুনের কয়েকদিন আগে ভুলবশত আমার লেখা একটি প্রেমময় ছন্দ চলে যায় তাসমিনের নম্বরে। পাঠানোর কথা ছিল আমার বন্ধু মাইদুলকে। মাইদুলের নম্বর ফোনে সেভ ছিল “Maidul”, আর তাসমিনের নম্বর “Maiya” নামে। তার সাথে কখনো ফোনে...
হরর গল্পে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হুমায়ূন আহমেদ

হরর গল্পে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হুমায়ূন আহমেদ

কলাম, ফিচার, সাহিত্য
নন্দিত লেখক শাখাওয়াত হোসেনের ফেসবুক পোস্ট থেকে হুমায়ূন আহমেদ ছোটগল্পে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আরেকটু স্পেসিফিক করি: হুমায়ূন আহমেদ হরর ছোটগল্পে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তার সময়কালীন ভালো হরর রাইটার খুঁজে পাওয়া মুশকিল; যদি পাওয়াও যায়, তবে হুমায়ূনের হররের ধারে কাছে কারোর আসার ক্ষমতা খুব একটা কারোর ছিল বলে মনে হয় না। হুমায়ূনের হররের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক হররের তুলনা দিতে পারি আমি নির্দ্বিধায়। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের মডার্ণ হররের কর্ণধার। তার বেশ ভালো সংখ্যক হরর ছোটগল্প আছে। আমি আমার ব্যক্তিগত পছন্দের হরর হিসেবে নিই, বীণার অসুখ, দ্বিতীয়জন কিংবা সে। দেবী ও নিশীথিনী বাদ দিয়েও মিসির আলির ‘আমি ও আমরা’ আলাদাভাবে নজরকাড়ে তার ভয়াবহ হরর এলিমেন্টগুলোর কারণে। উপরোক্ত ছয়টা হরর গল্পে আমরা হরর হিসেবে কী পাচ্ছি? এই প্রশ্নটার উত্তরের সাথেই জড়িত, কেন হুমায়ূন আহমেদ হরর গল্প...
হেজাযের আগুন

হেজাযের আগুন

কবিতা, সাহিত্য
সভাকবি হে মানুষ, শুনো নবীর বাণী, করো না গাফেল মন, যতদিন না হেজায হতে উঠবে অগ্নির জ্বালন। জ্বলে উঠবে সে আগুন, দিগন্তে ছড়াবে আলো, বুছরার উটের ঘাড়ে পড়বে তার দীপ্ত জ্যোতি ভালো। তখন বাতাস বলবে নীরব সুরে — “শেষ সময় আসন্ন, ফেরার পথ ধরো দূরে!” আকাশ কাঁপবে, পাহাড় গলে পড়বে ধূলায়, মানব হৃদয় তবু থাকবে গাফেল, ভয় পাবে না দোলায়। আল্লাহর নিদর্শন হবে সেই অগ্নিশিখা, গাফেলদের চোখ খুলবে, করবে তারা দোয়া-নিবেদনিকা। হে দুনিয়ার মানুষ, ফিরে চলো এখনই, যে আগুনের আলো জ্বলে উঠবে, তা হবে শেষ সনদ তোমার জীবনী। সেদিন সূর্য উঠবে না শান্ত রঙ্গে, চোখে ভয় আর তওবার কান্না বইবে ঢঙ্গে। হেজাযের আগুন হবে সাক্ষী, নবীর সত্য বাণী, যে শুনেছে, সে বেঁচে গেলো; যে অমান্য, হারালো প্রাণ ধরণী। নামঃসভাকবি। গ্রামঃব্রাহ্মণশোষণ। জেলাঃবি-বাড়িয়া।...
নদী ও শূন্যতা

নদী ও শূন্যতা

কবিতা, সাহিত্য
হাসান মাহমুদ নদী শুকিয়ে যায়, জেগে উঠে চর, শূন্যতার হাহাকার আমার ভিতর। নিঃশব্দ এখানে জোছনা ও জলের গান, হু হু করে কেঁদে উঠে বিরহির প্রাণ। জল হারালে যেমন মরে পাথারের আশ্রয়, বিরহী প্রাণের তেমনি হচ্ছে ক্ষয়। নদীর শূন্যতা করে হাহাকার— শুনতে কি পাও গভীরের সে চিৎকার? ঢেউয়ের মতো স্মৃতি আসে, আবার মিলায় দূরে, মনের ভেতর জাগে ব্যথা, করুন সেই সুরে। জোছনা ও জলের মিলন, জোয়ারে ভরে নদী, শান্ত হতো বিরহীর প্রাণ, ভালোবাসতে যদি। শুকনো নদী আমার মতো, বুকের ভেতর তারও ক্ষত, জোছনা-জলের মিলন হবে—বিরহ আমার অবিরত।।...
ভালো লাগে

ভালো লাগে

কবিতা, সাহিত্য
ওমর ফারুক ভালো লাগে তোমার চোখের ভাষা,যেন ভোরের কুয়াশায় সূর্যের আশা।ভালো লাগে তোমার মিষ্টি হাসি,যেন ফুলের পরাগে ভ্রমরের খুশি। ভালো লাগে তোমার স্পর্শের ছোঁয়া,যেন বৃষ্টির দিনে রোদ ঝরে হাওয়া।ভালো লাগে তোমার টানা দুটি চোখ,যেন পাগল হয়ে আমি ভাসি নয়নে। ভালো লাগে তোমার পাশে থাকা,যেন জীবন পায় নতুন দিশা।ভালো লাগে তোমায় ঘিরে ভাবা,যেন আকাশে চাঁদ তারায় ভরা। ভালো লাগে, শুধু তোমারই কারণে,জীবন সাজাই রঙিন স্বপনে। নামঃওমর ফারুক।গ্রামঃনন্দনপুর।থানাঃরূপসা।জেলাঃখুলনা।...