বসুন্ধরা একদিকে যেমন জমির ব্যবসা ও কোম্পানি জগতে মাফিয়ার নাম, তেমনি বাস্তবে কিছু কর্মকাণ্ডেও প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা কাজ করছেন মাফিয়ার মতো। কদিন আগে এক এনসিপি নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ৬০টির মতো ইনজেকশন দিয়ে টর্চার চালানোর মতো বর্বর ঘটনাও ঘটিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। মুনিয়া হত্যাকাণ্ডের আগেও একবার বিএনপির শাসনামলে বসুন্ধরার এমডি আনভীরের তৎকালীন বড় ভাইয়ের নামে ছিল খুনের মামলা। ওই সময় বিএনপি সরকারকে ২০ কোটি টাকা দিয়ে কোনোভাবে রক্ষা পায় সে। শোনা যায়, মুনিয়ার ঘটনা ধামাচাপা দিতে এ পর্যন্ত সায়েম সোবহান আনভীরকে গুনতে হয়েছে কয়েকশ কোটি টাকা।

আর এসব টাকার যোগান আসছে বসুন্ধরার খেলাপি ঋণ থেকেই। বসুন্ধরা দুটি প্রতিষ্ঠান, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেড ও বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডেরও বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়েছে। বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের সিসি হাইপো ঋণ ৩১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ডিমান্ড লোন ৮৩ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্রজেক্ট ঋণ এবং এলসি ঋণের প্রায় ৭৬৫ কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে। একক ঋণগ্রহীতা সীমা (লোন ক্যাপ) অতিক্রম করার কারণে অগ্রণী ব্যাংক এই ঋণের জন্য বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করছে, যা একক গ্রাহক সীমা অতিক্রমের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন।

এছাড়া, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও জালিয়াতির মতো অভিযোগ তদন্ত করছে সরকার গঠিত যৌথ তদন্ত দল। এই গ্রুপের পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যে ছয়টি কোম্পানি আছে, সেগুলোয় বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করার আদেশও দিয়েছিল আদালত। পাশাপাশি, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাট জব্দ করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত আনভীর ও তার আশপাশের লোকজনদের ভীতির নাম এনসিপি-জামায়াত। কারণ এই জোট ক্ষমতায় আসলেই অবৈধ কাজ ও টাকার হিসাব নিয়ে বিপদে পড়বে বসুন্ধরা গ্রুপ। উঠে আসবে তাদের দখলবাজি ও মাফিয়াগিরির নানা নজির। পুনরায় চালু হবে অনেক মামলা। এ কারণে বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের অধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নানাবিধ প্রচারণায় লিপ্ত হয়ে গণবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে।

এনসিপির জনপ্রিয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে উল্লেখিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী দল আওয়ামী লীগের পক্ষে টানা বয়ান তৈরি এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কর্তৃক অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর এই প্রোপাগান্ডা মেশিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি উল্লেখ করেছে, প্রমাণাদি ছাড়াই এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ জুলাইয়ের নেতাদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ফলে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর থেকে সাধারণ পাঠক ও দর্শকদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের টক-শোগুলোতে আওয়ামী গণহত্যার পক্ষে বয়ান তৈরির মহোৎসব চলছে।

নাটের গুরু আনভীর

বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনভীরের সঙ্গে পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা থেকে শুরু করে স্বয়ং শেখ হাসিনার সঙ্গেও ঘনিষ্ট যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। তবে আনভীর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। টাকার পাহাড় গড়ে তা দিয়ে বিদেশে হেরেমখানা চালানো ও সেখানে পলাতক দোসরদের ফূর্তির ব্যবস্থা করে বলেও জানা গেছে। এপস্টেইনের মতো বিশেষ চাহিদা মেটাতে বসুন্ধরার আনভীরের নাম উঠে এসেছে নারী পাচারকারীর তালিকাতেও। যথারীতি সব জায়গা থেকে নাম কাটাতে মোটা অংকের টাকায় নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে যাচ্ছে সে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *