জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনেক কর্মকর্তা ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এদের প্রত্যেকের নামে ও আত্মীয়দের নামে ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি রয়েছে।

ঘুষ খেয়ে টাকার কুমির বনে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন এনবিআরের অতিরিক্ত কর কমিশনার হাসান তারেক রিকাবদার, সদস্য একেএম বদিউল আলম, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান, যুগ্ম কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ড।

তাদের মধ্যে হাসান তারেক রিকাবদার এনবিআর রিফর্ম অ্যালায়েন্সের সভাপতি।

এর মাঝে একাধিক বড় মাপের ঘুষ-ঘটনায় জড়িতরা হলেন বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, ঢাকা পূর্ব কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা, সার্কেল-৭ রাজশাহীর উপকর কমিশনার মো. মামুন মিয়া ও ঢাকা কর অঞ্চল-২-এর কর পরিদর্শক লোকমান আহমেদ।

অনুসন্ধানে এদের প্রত্যেকেরই কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ বেরিয়েছে। অতিরিক্ত কর কমিশনার হাসান তারেক রিকাবদারের পরিবার ও বিভিন্ন আত্মীয়ের একাউন্টে পাওয়া গেছে মোট ৯৫০ কোটি টাকার হিসাব। সদস্য একেএম বদিউল আলম, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা প্রত্যেকেই ৫০০ কোটি টাকারও বেশির মালিক বনেছেন।

বাকি প্রত্যেকেরেই ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও মফস্বলে জমি রয়েছে। বিদেশেও এদের নামে রয়েছে সম্পত্তি। আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা লন্ডনে বাড়ি কিনেছেন বলে জানা গেছে। সার্কেল-৭ রাজশাহীর উপকর কমিশনার মো. মামুন মিয়া ও ঢাকা কর অঞ্চল-২-এর কর পরিদর্শক লোকমান আহমেদও পাচার করেছেন কয়েক কোটি ডলার।

এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দুদকের তদন্ত চলমান। তবে এর বাইরেও ঢাকার আরও কিছু আয়কর সার্কেলের পরিচালকদের স্ত্রীর নামে একাধিক ব্যাংক একাউন্টের খবর এসেছে আজকের কাগজের হাতে। পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ হবে বিস্তারিত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *